এই ঈদুল ফিতরে বড় পর্দায় আসছে এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা—দম। জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো এবার হাজির হচ্ছেন এক তীব্র সারভাইভাল থ্রিলার নিয়ে, যা ইতোমধ্যেই দর্শকদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে। পরিচালনায় আছেন রেদোয়ান রনি, যিনি দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরছেন পরিচালকের চেয়ারে।
দম.com-এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো সিনেমাটির বিস্তারিত আপডেট, কাহিনি ভাবনা ও নির্মাণের বিশেষ দিকগুলো।
কাজাখস্তানের বরফঢাকা প্রান্তরে ‘দম’-এর শুটিং
সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ এর আন্তর্জাতিক লোকেশন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দমের পুরো টিম পাড়ি জমিয়েছিল কাজাখস্তান-এর এক দুর্গম, বরফাচ্ছন্ন অঞ্চলে। প্রকৃতির চরম প্রতিকূলতার মধ্যে চলছে শুটিং।
এই অভিযানে অভিনেতা নিশোর সঙ্গে ছিলেন—
- প্রযোজক শাহারিয়ার শাকিল
- আর্ট ডিরেক্টর শহিদুল ইসলাম
- এবং দক্ষ একটি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় টিম
বরফ, তুষারঝড় ও শূন্যের নিচে তাপমাত্রার মধ্যে শুটিং—সব মিলিয়ে ‘দম’ হতে যাচ্ছে ভিজ্যুয়ালি এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
গল্পের ধরন: সারভাইভাল থ্রিলারের নতুন অধ্যায়
দম মূলত একটি সারভাইভাল থিমের সিনেমা। এখানে দেখা যাবে জীবন-মৃত্যুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এক মানুষের লড়াই।
গল্পের মূল আকর্ষণ—
- প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ
- বেঁচে থাকার নিরন্তর সংগ্রাম
- মানসিক শক্তির পরীক্ষা
- গভীর মানবিকতার উন্মেষ
নির্মাতাদের ভাষায়, এটি শুধু একটি গল্প নয়—এটি এক আবেগের লড়াই, বেঁচে থাকার যাত্রা। দর্শক এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করবেন মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি ও ভয়কে।
আফরান নিশোর চ্যালেঞ্জিং চরিত্র
এক সাক্ষাৎকারে আফরান নিশো জানান—
“এই চরিত্রটা আমার জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ। জার্নিটা কষ্টদায়ক, পীড়ানায়ক। প্রচণ্ড স্ট্রাগল করতে হবে। তবে এই চরিত্রে আমি আমার পরিশ্রম আর আবেগ সব ঢেলে দিচ্ছি।”
এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, নিশোর ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন ও ব্যতিক্রমী চরিত্র হতে যাচ্ছে ‘দম’। শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে তিনি এই চরিত্রে নিজেকে সম্পূর্ণ আবিষ্ট করেছেন।
বাংলাদেশি সিনেমায় সারভাইভাল ঘরানার কাজ খুব কম দেখা গেছে। তাই ‘দম’ হতে পারে নতুন এক ধারা সৃষ্টির সূচনা।
রেদোয়ান রনির প্রত্যাবর্তন
পরিচালক রেদোয়ান রনি দীর্ঘদিন পর আবার বড় প্রজেক্ট নিয়ে ফিরছেন। তাঁর এই ফেরা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নির্মাতারা বলছেন, এই সিনেমা হতে যাচ্ছে ইতিহাস গড়ার মতো একটি উদ্যোগ।
রনির গল্প বলার ধরণ, বাস্তবধর্মী নির্মাণশৈলী এবং আন্তর্জাতিক লোকেশন ব্যবহারের সাহস—সব মিলিয়ে ‘দম’ ইতোমধ্যেই আলোচনায়।
কেন ‘দম’ হতে পারে ২০২৬ সালের ঈদের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা?
✔ সারভাইভাল থ্রিলার—বাংলাদেশি সিনেমায় তুলনামূলক নতুন ঘরানা
✔ আন্তর্জাতিক লোকেশনে শুটিং
✔ আফরান নিশোর চ্যালেঞ্জিং রূপ
✔ আবেগ, রোমাঞ্চ ও বাস্তবতার মিশেল
✔ ঈদুল ফিতরে মুক্তি—ফ্যামিলি ও থ্রিলার দর্শকদের জন্য আকর্ষণ
উপসংহার
‘দম’ শুধু একটি সিনেমা নয়—এটি এক মানুষের বেঁচে থাকার আর্তনাদ, প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং আত্মশক্তির জয়গান। বরফাচ্ছন্ন প্রান্তরে জীবন-মৃত্যুর লড়াই—এই গল্প দর্শকদের নিয়ে যাবে এক সম্পূর্ণ নতুন জগতে।
এই ঈদে আপনি কি প্রস্তুত সেই রোমাঞ্চকর সারভাইভাল জার্নির জন্য?
তাহলে বড় পর্দায় মিস করবেন না—আফরান নিশোর দম (২০২৬)।







Leave a Reply