A Redoan Rony Film • Eid Ul Fitr 2026

Domm: Until The Last Breath


দম সিনেমার অভিনেত্রী ডলি জোহুর কে? | Biography, Life & Career

দম সিনেমার অভিনেত্রী ডলি জোহুর কে? | Biography, Life & Career

বাংলা বিনোদন জগতের এক অবিস্মরণীয় নাম ডলি জোহুর। একশো পদক প্রাপ্ত এই কিংবদন্তী অভিনেত্রী ২০২৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন। তার অভিনয় দক্ষতা এবং বিনোদন অঙ্গনে অবদান দেশের এবং বিদেশের অগণিত ভক্তকে অনুপ্রাণিত করেছে।

ডলি জোহুর অভিনয় ছাড়াও জীবন দর্শন, পরিবারের প্রতি ভালোবাসা এবং শিক্ষার দায়িত্ববোধের জন্যও সুপরিচিত।

শৈশব এবং পারিবারিক প্রভাব

ডলি জোহুর বা জন্মনামে হামিদা বানু, একটি প্রগতিশীল পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা মায়ের চিন্তাধারা মেয়েদের নামে মায়ের নাম যুক্ত করার দৃষ্টিকোণ খুবই অনুপ্রেরণামূলক ছিল। ডলি পাঁচ বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে ছিলেন অন্যতম, এবং তার নাম “বানু” রাখা হয় মায়ের প্রতি সম্মানের প্রতীক হিসেবে।

শৈশব থেকেই ডলি ছিল স্বাধীনচেতা এবং সাহসী। ছোটবেলায় তিনি মুটকি বা লম্বা চুল রাখার মতো বিষয়েও স্বতন্ত্র ছিলেন, যা তার পরিবারও সমর্থন করত। তার পরিবার এবং বন্ধুরা তাকে সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন নিজস্ব পছন্দ ও স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে।

অভিনয়ে যাত্রা

ডলি জোহুরের অভিনয় যাত্রা শুরু হয় টেলিভিশনের মাধ্যমে। ১৯৭৪-৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নাট্যগ্রুপ কথক এর সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর প্রথম অডিশন দিয়ে টেলিভিশনে কাজ করার সুযোগ পান।

তার অভিনীত প্রথম নাটকটি পরিচালনা করেছিলেন আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমাম। সেখানে ডলিকে প্রধান নায়িকা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এরপর থেকে তার অভিনয় জীবনে ধাপে ধাপে অর্জন আসে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সহ একাধিক সম্মাননা তার প্রতিভার স্বীকৃতি।

ডলি জোহুরের অভিনয় কৌশল দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, বিশেষ করে ১৯৮৫ সালের “শঙ্খীল কারাগার, আগুনের পরশ এবং মনির সুরমা”র মতো চমৎকার কাজগুলো আজও স্মরণীয়।

ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার

ডলি জোহুরের ব্যক্তিগত জীবনও তার ভক্তদের জন্য খুবই আগ্রহের বিষয়। তার জীবনসঙ্গী জহুরুল ইসলাম (জোহর) এর সঙ্গে পরিচয় হয় কলেজের সময়। বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয়ের পর হঠাৎ করেই তাদের বিয়ে হয় ৫ নভেম্বর ১৯৭৬ সালে।

তিনি সবসময় তার পরিবার ও সন্তানদের কাছে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। দেশের বাইরে থাকার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বাংলাদেশে থেকে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। ডলি জোহুর রান্নার ক্ষেত্রেও দক্ষ; বিশেষ করে তার হালুয়া এবং গরুর মাংসের ভুনা অত্যন্ত জনপ্রিয়।

অভিনয় এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক

ডলি জোহুরের সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক। তিনি নিজের বয়স বা অবস্থানের ভয়ে কাউকে ছোট করে দেখেন না। মান্না, সালমান ও হুমায়ন ফরিদির মতো অভিনেতাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল মায়ার মতো, যেখানে কাজের পাশাপাশি বন্ধুত্ব এবং সমর্থন ছিল মূল বিষয়।

শুটিং সেটে তার আচরণ প্রফেশনাল ও সদয়—যা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করে। তার এনার্জি ও আন্তরিকতা কর্মক্ষেত্রে সবার প্রতি প্রভাব ফেলে।

দম সিনেমায় ডলি জোহুর:

ডলি জোহুর আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫ সালে দম সিনেমায় কাজ শুরু করেন। তিনি সিনেমার প্রধান চরিত্র নুরের মা হিসেবে দর্শকের সামনে উপস্থিত হবেন। দীর্ঘদিন ধরে সিনেমা থেকে দূরে ছিলেন, তাই হঠাৎ করে দম সিনেমায় তার অভিনয় যোগ হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দম সিনেমায় তার অভিনয় দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হবে।

স্বাস্থ্য এবং জীবনধারা

ডলি জোহুরের সুস্থতা এবং দীর্ঘায়ু জীবনযাত্রা তাকে একটি আদর্শে পরিণত করেছে। ৭১ বছর বয়সেও তিনি স্বাস্থ্যবান, কোনো ডায়াবেটিস বা গুরুতর অসুস্থতা নেই। তিনি বাইরের ভাজাপোড়া খাবার কম খেয়ে, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করে থাকেন।

ডলি জোহুরের শিক্ষা এবং সামাজিক প্রভাব

ডলি জোহুর শুধু একজন অভিনেত্রী নন, তিনি সমাজের প্রতি দায়িত্ববান। শিক্ষার প্রতি তার গুরুত্ব এবং প্রগতিশীল চিন্তাধারা তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। তার জীবনের গল্প প্রমাণ করে, সাফল্য শুধুমাত্র প্রতিভার নয়, বরং ধৈর্য, নৈতিকতা এবং পরিবারের প্রতি ভালোবাসার সমন্বয়েও আসে।

উপসংহার

ডলি জোহুর বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অভিনয়ের প্রতি তার নিষ্ঠা, পরিবারের প্রতি ভালোবাসা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তাকে সবসময় শ্রদ্ধার যোগ্য করে তোলে। তার জীবনের গল্প আমাদের শিখায়—সাফল্য আসে সততা, ধৈর্য ও পরিবারিক সমর্থনের মাধ্যমে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *